-
- ঢাকা, দেশজুড়ে
- জীবিত থেকেও ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ মুক্তিযোদ্ধা নজিবুর!
জীবিত থেকেও ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ মুক্তিযোদ্ধা নজিবুর!
নিউজ ডেস্ক
- প্রকাশের সময় June, 8, 2025, 3:05 pm
জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জীবিত থেকেও মৃত নজিবুর রহমান বিশ্বাস (৭৭) নামে এক মুক্তিযোদ্ধা। মৃত দেখিয়ে সর্বশেষ ভোটার হালনাগাদ তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নজিবুর রহমান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের সাতাশিয়া গ্রামের মৃত করিম বিশ্বাসের ছেলে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের ওয়েবসাইটে নাম না থাকায় ভোটাধিকার প্রয়োগ, ব্যাংক ঋণসহ সরকারি অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবার। দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী নজিবুর রহমান জানান, তিনি একজন পক্ষাগ্রস্থ মুক্তিযোদ্ধা। জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাকে মৃত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণের জন্য এনআইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিলে বাধে বিপত্তি। এনআইডি যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তার এনআইডি কার্ডের নম্বরটি অকার্যকর। কারণ জানতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন- হালনাগাদ ভোটার তালিকায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। অথচ তিনি এখনও জীবিত আছেন। শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় ইউপি সদস্য এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধা নজিবুর রহমানের।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে কাশিয়ানী উপজেলার ভোটার তথ্য হালনাগাদ করা হয়। ওই সময় মাহমুদপুর ইউনিয়নের সাতাশিয়া গ্রামে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন সাতাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজিবুল ইসলাম সোহেল। তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারের দেওয়া তথ্যে এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য হানিফ মোল্লার শনাক্তের পরিপ্রেক্ষিতে নজিবুর রহমানকে মৃত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তখন থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্রের তালিকায় মৃত নজিবুর রহমান।
মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সোহেল বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় ইউপি সদস্য শনাক্তকারী হিসেবে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহকারী ওই ইউপি সদস্যের ভাতিজা। যে কারণে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে মৃত দেখানো হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে হেয় ও ভোটাধিকার প্রয়োগ, ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি চেয়ে ইউএনও কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’
অভিযোগের বিষয় ইউপি সদস্য হানিফ মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নজিবুর রহমান বিশ্বাস মারা গেছেন। তিনি আমার ওয়ার্ডের লোক ও আমার বাবার ফুফাতো ভাই। মারা গেছে জেনেই শনাক্ত করেছি।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে সময় ভুল তথ্যের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। নজিবুর রহমান নির্বাচন অফিসে এসে ফিঙ্গার প্রিন্ট ভেরিফিকেশন করেছেন। দ্রুত তাকে জীবিত স্ট্যাটাসে তালিকাভূক্ত করা হবে।’
-লিয়াকত হোসেন লিংকন
এই বিভাগের আরও খবর